বৃহস্পতিবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

(বিএমডিএ) এলএলপি ও পাতকুয়ার সেচ সুবিধায় ভাগ্য পরিবর্তন চরবাসী 

নিউজটি শেয়ার করুন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  লো লিফ্ট পাম্প (এলএলপি) ও পাতকুয়া স্থাপনে এখন চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। রাজশাহীর পবার হরিপুর ইউনিয়নের চরমাঝারদিয়াড়ে এরই মধ্যে সবজি চাষসহ ফলের আবাদে ঝুকেছে চাষিরা।

সোমবার দুপুরে একটি এলএলপি ও ছয়টি পাতকুয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন

বিএমডিএ’র প্রকল্প পরিচালক (এসডাব্লুউআইপি) শরীফুল হক, পবা উপজেলা বিএমডিএ’র সহকারি প্রকৌশলী এএসএম দেলোয়ার হোসেন, উপ সহকারি প্রকৌশলী রাহাত পারভেজ, হরিপুর ইউপির চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল প্রমুখ। প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এসব পাতকুয়া ও এলএরপি। যা সম্পূর্ণ সোলার সিস্টেমে (সৌর বিদ্যুতে) চলবে।

পদ্মা নদী থেকে এই এলএলপি’র মাধ্যমে চরএলাকার তিনশো’ থেকে পাঁচশো’ বিঘা জমিতে সেচ সুবিধা পাবে চাষিরা। এছাড়াও প্রতিটি পাতকুয়া থেকে সেচ দিয়ে সবজি আবাদ করা যাবে ৩০-৩৫ বিঘা জমিতে। বিশেষ করে পাতকুয়া থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ পাচ্ছেন কৃষক

পরিবার। এছাড়াও পতিত কৃষি জমিতে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে পারছেন তারা। ফলে একদিকে যেমন বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন এবং অন্যদিকে সবুজ হচ্ছে পতিত জমি। আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

রাজশাহীর পদ্মা নদীর ওপারে পবা উপজেলার চর মাঝারদিয়াড়। এতদিন সুপেয় পানি ও সেচের পানির জন্য গ্রীষ্মকালে ব্যাপক সমস্যা হতো এই চরএলাকার মানুষের। তবে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পাতকুয়া থেকে পানি পাওয়ায় সেই

চর অঞ্চলে এখন পানির সমস্যার সমাধান হয়েছে। তারা এখন জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, মরিচ চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টমেটো, আলু, আবাদের জন্যও পানি পাচ্ছে চর অঞ্চলের মানুষ। সবজি আবাদের পাশাপাশি তারা ফলের আবাদে মেতেছে। বিশেষ করে আম, পেয়ারা ও কলা চাষ করছেন। চরের এই বিষমুক্ত ফলের চাহিদা, মান ও দাম সবই বেশী। কাজেই চাষিরা এখন ফলের আবাদ করে লাভবান হচ্ছে।

পবার হরিপুরের চর মাঝারদিয়াড়ে সুপেয় পানি ও সেচের জন্য এলএলপি (নদী থেকে পানি উঠানো) এবং সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পাতকুয়া থেকে পানি উত্তোলন বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ মূলক চালু আছে। আর এতেই চরবাসীর জীবনমান, সবুজায়ন ও আবাদের পরিমান বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ পাতকুয়ার সফলতা নিয়ে এখন অনেক আশাবাদি হয়ে উঠেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চরের বাসিন্দারা এখন খাবার পানি সংগ্রহ করছেন

পাতকুয়া থেকে। সেখান থেকে কৃষি জমিতে সেচ দিয়ে ফলানো হচ্ছে নানা জাতের সবজি।

স্থানীয় ইউপি’র চেয়ারম্যান বজরে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল জানান, চরাঞ্চলে খাবার পানির সমস্যা প্রকট ছিলো। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পানি পাওয়া যেত না। হাতকলেও তেমন পানি মিলতো না। এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। এলএলপি ও পাতকুয়া স্থাপনে তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। পাতকুয়ার কারনে সহজেই মিলঝে খাবার বিশুদ্ধ পানি। আবার চাষাবাদও হচ্ছে কৃষি জমি।

বিএমডিএ রাজশাহীর  প্রকল্প পরিচালক (এসডাব্লুউআইপি) শরীফুল হক বলেন, ‘পাতকুয়া ব্যবহারের সুফল অনেক। এটি ব্যবহারে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে যত বেশি গভীর নলকূপের ব্যবহার কমানো যায় ততই ভাল। এছাড়া খরার সময় খরাপ্রবণ এলাকায় স্বল্প সেচের ফসল উৎপাদন ধরে রাখা যায়। বিশেষ করে আগাম শিম, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, আলু, করলা, শসা এসবের আবাদের জন্য এখন পাতকুয়া নির্ভরশীল হয় উঠেছে। প্রতিটি পাতকুয়ায় ব্যয় হয়েছে ১৩ লাখ টাকা এবং একটি এলএলপিতে ব্যয় হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।

এই বিভাগের আরও খবর

আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। তারা মনের আনন্দে ধান কাটার

ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত চাষিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করে মধুখালী এলাকার চাষিরা। বেশিরভাগ ক্ষেতের ধান পাকতে শুরু করায় ধান কাটা-মাড়াই করে

খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   কুয়াশা আর ভোরে লতা-পাতা ও ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু জমে থাকাই জানান দিচ্ছে গ্রামীণ জনপদে শীতের আগমনী বার্তা। শীত মৌসুমকে

তিস্তা নদীর চরজুড়ে সবুজের সমারোহ

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   এক সময় গরু-ছাগলের বিচরণ ভূমি ছিল তিস্তা নদীর চর। তিস্তার মাছই ছিল চরের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। মাছ ছাড়া জীবিকার তেমন

পাহাড়ে কমলার বাম্পার ফলন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   পাহাড়ে কমলার বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত এসব কমলা যেমন রসালো, তেমন মিষ্টি। তাই পাহাড়ি কমলার চাহিদাও বেশি, দামও কম। রাঙামাটিতে

আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আধুনিক ও