বুধবার ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাগমারায় ২২০ ফুট নৌকার মঞ্চে হবে জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন বাঙালি আবারও অপরাজনীতিকে রুখে দিবে : ডেপুটি স্পিকার ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নয়াপল্টনে, সোহরাওয়ার্দীতে নয় : রিজভী জিএম কাদেরের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত যে ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেশের ৩৮টি কারাগারে বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির সমাবেশের সুবিধার্থে সব করার পরও বাড়াবাড়ি করলে ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ধ্বংসে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের প্রতিনিধিরা’ নানা ধরনের বাদাম দিয়ে পুষ্টিকর নাস্তা বয়স ৬০ পেরোলে যেসব হেলথ চেকআপ

ফল চাষে সফল মহেশপুরের আক্তারুজ্জামান

নিউজটি শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক

 

কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে যে কোনো কাজে সফলতা পাওয়া যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন আক্তারুজ্জামান নামে এক সফল ফলচাষি। ফল চাষ শুরু করার মাত্র ৬/৭ বছরে পেয়েছেন অভাবনীয় সফলতা। পরিচিত ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নতুন নতুন ফলের চাষ করে হইচই ফেলে দিয়েছেন। তার চাষ পদ্ধতি আর সফলতার ফলে এলাকার কৃষকদের মাঝে তিনি হয়ে উঠেছেন আদর্শ চাষি।

বর্তমানে তার ৫০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ড্রাগন, মাল্টা, ছাতকি কমলার চাষ রয়েছে। গতবার প্রায় কোটি টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এবারও তিনি প্রায় দেড় কোটি টাকার ড্রাগন, মাল্টা বিক্রি করবেন। সফল এই ফল চাষি আক্তারুজ্জামান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাথানগাছি গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছোট ছেলে।

কথা হয় আক্তারুজ্জামানের সাথে। লেখাপড়া ছেড়ে বাড়িতে চলে আসার পর পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের নানা ছন্দ পতনের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত হচ্ছিল তার। সমাজ জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে অর্থ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছিলেন প্রতিটি দিন। এমন সময় অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সফল উদ্যোক্তার গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হন।

এরপর যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তার।
তিনি বলেন, ২০১০ সালের কথা, যুব উন্নয়ন থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিই। এরপর উপজেলা যুব ও মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরিবার থেকে প্রাপ্ত কিছু আরো অর্থ যোগ করে আক্তারুজ্জামান এগ্রো ফার্ম নামে একটি কৃষি ফার্ম গড়ে তুলি। প্রথম দিকে ১৫ বিঘা জমিতে পেঁপে ও কলা দিয়ে শুরু করি।

এর সাথে ১২ বিঘা জমিতে কুলচাষ করি। চাষের শুরু থেকে সফলতা আসতে থাকে। ২০১৬ সালে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সহযোগিতায় পেয়ারার বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করি। সেই চারা ৫০ বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়। এসব জমি অর্ধেকের বেশি বর্গা নেওয়া।
একই বছর পেয়ারার সাথে ২০ বিঘা জমিতে সমন্বিত পদ্ধতিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে ছাতকি কমলার চারা রোপণ করা হয়। পরের বছর বাকি ২০ বিঘা জমিতে পেয়ারার সাথে ড্রাগনের চারা রোপণ করি। চলতি বছর ওই জমি থেকে ২৫ থেকে লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছি। এছাড়া ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। বাগান রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৭০ থেকে ৮০ লাখ লাভ হচ্ছে বলে জানান এই সফল ফলচাষি।

তার বিশাল এরিয়ায় গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন এই বাগান দেখতে এখন প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তাসহ উদ্যোক্তারা বাগান পরিদর্শন করছেন। যেখানে নিয়মিত প্রায় ২৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তিনি জানান, ড্রাগন একটি টেকসই ফল। খুঁটি পদ্ধতিতে একটি খুঁটিতে চারটি চারা রোপণ করতে হয়। রোপণের পর ফল আসতে সময় লাগে প্রায় ১৮ মাস। ফল আসা পর্যন্ত খুঁটি প্রতি খরচ পড়ে গড়ে এক হাজার টাকা। একটি খুঁটিতে এক বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ফল উৎপাদিত হয়। ড্রাগন ফলের মৌসুম শুরু হয় এপ্রিল মাস থেকে একটানা নভেম্বর মাস পর্যন্ত। এসময়ে কয়েক দফায় ফল আসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মাথায় ড্রাগন তোলা যায়। ড্রাগন গাছে মূলত জৈব সার এবং সাথে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার এবং পিঁপড়া দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিলেও সংসার বিরাগী হওয়ায় কোনো রকমে তৃতীয় বিভাগে পাশ করেন তিনি। এরপর ভাইয়েরা জোর করে ঢাকাতে নিয়ে একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। সেখানেও ভালো না লাগায় পালিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ফলে লেখাপড়া আর হয়ে উঠেনি তার।

মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান আলী জানান, আক্তারুজ্জামানের ফল চাষ পদ্ধতি প্রশংসার দাবি রাখে। তার ফলচাষে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে অনেক বেকার দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করি। বিশেষ করে ফল চাষের রোগ-বালাই দমনে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি অফিসের একজন উপ-সহকারী কর্মকর্তা প্রতিদিনই তার বাগান পরিদর্শন করে।

তিনি আরো বলেন, বিদেশি ফল ড্রাগন ও মাল্টা লাভজনক হওয়ায় অনেকে এখন তার কাছ থেকে চারা নিয়ে রোপণ করছে। ক্যাকটাস গোত্রের ফল ড্রাগন দেখতেও খুব আকর্ষণীয়। এর স্বাদ হালকা মিষ্টি। ড্রাগন ফলে ক্যালোরি খুব কম থাকায় এ ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও আয়রন রয়েছে। যে কারণে শরীরের চর্বি কমায় ও রক্তের কোলেস্টেরল কমানোসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

এই বিভাগের আরও খবর

বাগমারায় ২২০ ফুট নৌকার মঞ্চে হবে জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনশামীম রেজা,বাগমারা প্রতিনিধি ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে বাগমারায়। এখন পর্যন্ত অনেক সম্মেলন হয়েছে দেশে। তবে এতো বড় নৌকার মঞ্চ কোথাও দেখা যায়নি। সকল সম্মেলনকে

বাঙালি আবারও অপরাজনীতিকে রুখে দিবে : ডেপুটি স্পিকার

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন  অনলাইন ডেস্ক   ডেপুটি স্পিকার মো শামসুল হক টুকু বলেছেন, বাঙালি আবারও অপরাজনীতিকে রুখে দিবে। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু সাঁথিয়া থিয়েটারের

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নয়াপল্টনে, সোহরাওয়ার্দীতে নয় : রিজভী

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে গণসমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে বিএনপিকে ২৬টি শর্ত দিয়েছে ডিএমপি।

জিএম কাদেরের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জিএম কাদেরের নিষেধাজ্ঞার আদেশ আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্থগিত করেছেন

যে ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে গণসমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে বিএনপিকে ২৬টি শর্ত দেয়া হয়েছে।

দেশের ৩৮টি কারাগারে বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনঅনলাইন ডেস্ক   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেছেন, যারা পালিয়েছে তারা (জঙ্গি) দীর্ঘদিন ধরে একটা পরিকল্পনা করেই এই জিনিসটা ঘটিয়েছে। যেখানে আমাদের দুর্বলতা