বুধবার ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
রাজশাহী মহানগরীর ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে রাসিক মেয়র রাজশাহী চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোয় উঠতে আর্জেন্টিনাকে আজ যা করতে হবে বাংলাদেশ সবসময় ভারতের নিকট থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়: প্রণয় ভার্মা বাগমারায় ২২০ ফুট নৌকার মঞ্চে হবে জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন বাঙালি আবারও অপরাজনীতিকে রুখে দিবে : ডেপুটি স্পিকার ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নয়াপল্টনে, সোহরাওয়ার্দীতে নয় : রিজভী জিএম কাদেরের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত যে ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেশের ৩৮টি কারাগারে বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাপ্তি আদায়ের পথ খুঁজছে সংগীতাঙ্গন

নিউজটি শেয়ার করুন

করোনা যেমন ভুগিয়েছে, তেমনি শিখিয়েছেও অনেক। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা ভেবেছে সংগীতাঙ্গন। অধিকার আদায়ের তাগিদে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকারেরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। সংগীতচর্চা ও পরিবেশনের পাশাপাশি তাঁরা এখন নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্তির পথ খুঁজছেন। অনেকে নিয়মিত রেমিট্যান্সও পাচ্ছেন। সম্ভাবনাময় এ অঙ্গনের দুর্নীতি দূর করে স্বচ্ছ, সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে মিউজিক বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইতিমধ্যে এ অঙ্গনের বেশ কিছু জটিলতার মীমাংসা হয়েছে। নতুন আঙ্গিকে সংগঠিত হয়েছেন শিল্পীরা। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিডব্যাক ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে কখনোই কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি। ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য মাকসুদ একসময় সেই দল ছেড়ে গড়েন আরেকটি ব্যান্ড। নতুন দলটি যখন মঞ্চে ফিডব্যাকের গান পরিবেশন শুরু করে, তৈরি হয় স্বত্ব নিয়ে জটিলতা, যা চলতে থাকে বছরের পর বছর। অবশেষে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের মধ্যস্থতায় ফিডব্যাকের গানগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি রয়্যালটির সুষম বণ্টন নিশ্চিতে ফিডব্যাক ও মাকসুদের মধ্যে সমঝোতা হয়।

এভাবে মাইলস, শিরোনামহীন, ওয়ারফেজ, সরলপুর ব্যান্ড এবং ‘আমি তো ভালা না’ গানের বিষয়ে গীতিকার ও সুরকার টিটু পাগলের স্বীকৃতিরও সমাধান হয়। এ–সংক্রান্ত অভিযোগ দিয়ে বিভিন্ন সময় সমাধান পেয়েছেন ফরিদা পারভীন, দিলরুবা খান, শুভ্র দেব, সেলিম চৌধুরী, মনির খানসহ আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী।

স্বীকৃতি বা অধিকার আদায় বা প্রাপ্তি নিশ্চিতে কখনো কখনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণপত্র জরুরি। কয়েক বছর আগেও এ বিষয়ে উদাসীন ছিলেন শিল্পীরা। এখন তাঁরা সচেতন। বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে ৫০০। ক্রমেই সেটা বেড়েছে। পরের বছর রেজিস্ট্রেশন বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৯৫টি, গত বছর হয় ৩ হাজার ২০৫টি। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ১ হাজার ৭১১টি। এ প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস (যুগ্ম সচিব) জাফর রাজা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রয়্যালটি নিয়ে শত শত অভিযোগ ছিল। গীতিকার-সুরকারেরা প্রায়ই অভিযোগ দিতেন, তাঁরা রয়্যালটি পাচ্ছেন না। নিজের গান নিজে ইউটিউবে আপলোড করতে বাধার মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে সবাইকে বুঝিয়ে সচেতন করতে তিন বছর লেগে গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো সংস্কার এবং বাড়তি উদ্যোগের প্রয়োজন। যেমন শিল্পীদের রয়্যালটি বাস্তবায়নে সরকার অনুমোদিত সিএমও বাংলাদেশ লিরিসিস্টস কম্পোজার্স অ্যান্ড পারফরমার্স সোসাইটি (বিএলসিপিএস) ২০১৪ সালে গঠিত হয়। গত ছয় বছরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম ছিল না। আবার সরকারি অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অবৈধ ব্যবসা করছে গানের বাজারে। জাফর রাজা চৌধুরী মনে করেন, এসব থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে মিউজিক্যাল বোর্ড গঠন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে কপিরাইট ক্লেইম বোর্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। আমাদেরও সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মিউজিক বোর্ড গঠন করতে হবে।’

বর্তমান বাজারে সংগীতচর্চা শুধু শখ নয়, পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় এসেছে। কিন্তু নানা রকম অনিয়মের কারণে এত দিন একে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সম্মিলিতভাবে ক্ষেত্র তৈরি করে পরের প্রজন্মের জন্য ন্যায্য প্রাপ্তির পথ বের করতে হবে।

সংগীতাঙ্গনে নীতিমালা গঠনের কথাও বলছেন কেউ কেউ। সদ্য সংগঠিত কণ্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশের আহ্বায়ক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫০ বছরও অবহেলিত সংগীতাঙ্গনের কোনো সুষ্ঠু নীতিমালা করা যায়নি। অথচ সংস্কৃতির অন্য প্রায় সব শাখার রয়েছে শক্তিশালী সংগঠন।

গীতিকবি আসিফ ইকবাল বলেন, ‘বর্তমান বাজারে সংগীতচর্চা শুধু শখ নয়, পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় এসেছে। কিন্তু নানা রকম অনিয়মের কারণে এত দিন একে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সম্মিলিতভাবে ক্ষেত্র তৈরি করে পরের প্রজন্মের জন্য ন্যায্য প্রাপ্তির পথ বের করতে হবে।’

সংগীতাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ থাকলেও অধিকার এবং প্রাপ্তির জায়গায় গরমিল ছিল। এ নিয়ে নানা সময়ে নতুন নতুন সংকট, জটিলতা তৈরি হতো। সম্প্রতি সেসব নিরসনে শিল্পীদের তৎপরতার পাশাপাশি কপিরাইট অফিসের উদ্যোগও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে। সংগীতাঙ্গনে এখন পালাবদলের সময় যাচ্ছে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে গেলে প্রাপ্তির পথ মসৃণ হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজশাহী মহানগরীর ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে রাসিক মেয়র

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন নিজস্ব ‍প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মোহনপুর রেলক্রসিং এর অবশিষ্ট দুই লেন ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন

রাজশাহী চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুননিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের মূলতবীকৃত ৬ষ্ঠ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১২টায় চেম্বার বোর্ড রুমে

শেষ ষোলোয় উঠতে আর্জেন্টিনাকে আজ যা করতে হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন ‘ডি’ গ্রুপ থেকে ফ্রান্স দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলেছে দুই ম্যাচ খেলেই। আজ ‘সি’ ও ‘ডি’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বের বাকি তিনটি

বাংলাদেশ সবসময় ভারতের নিকট থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়: প্রণয় ভার্মা

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনবাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আজ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি নীতি থাকায় বাংলাদেশ সবসময় ভারতের নিকট থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। তিনি

বাগমারায় ২২০ ফুট নৌকার মঞ্চে হবে জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুনশামীম রেজা,বাগমারা প্রতিনিধি ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে বাগমারায়। এখন পর্যন্ত অনেক সম্মেলন হয়েছে দেশে। তবে এতো বড় নৌকার মঞ্চ কোথাও দেখা যায়নি। সকল সম্মেলনকে

বাঙালি আবারও অপরাজনীতিকে রুখে দিবে : ডেপুটি স্পিকার

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন  অনলাইন ডেস্ক   ডেপুটি স্পিকার মো শামসুল হক টুকু বলেছেন, বাঙালি আবারও অপরাজনীতিকে রুখে দিবে। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু সাঁথিয়া থিয়েটারের